সন্তানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আর্তনাদ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

ছেলের দুটো কিডনিই নষ্ট। একটি কিডনি দিয়ে ছেলেকে বাঁচাতে প্রস্তুত মা। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন করতে প্রয়োজন ৮ লাখ টাকা। দিন মজুর পরিবারের পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। ফলে আটকে আছে কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজ।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, উজ্জ্বল, মায়াবী চেহারার সুদর্শন যুবক শামসুল হক দাঁড়িয়া। বয়স ২৮। পৈত্রিক নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামে হলেও জন্ম থেকেই বসবাস করছেন গোপালপুর গ্রামের নানা বাড়িতে। ছোট বেলায় আরবী পড়ায় আগ্রহ থাকায় ভর্তি হন মাদ্রাসায়।

মাওলানা, মুফতি পাস করে কোটালীপাড়ার হিরণ মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন শামসুল হক। নিমিষেই তার আচার-আচরণ, পড়ানোর দক্ষতায় প্রিয় হয়ে ওঠেন সকলের কাছে।

মা-বাবা, স্ত্রী, ছেলে ও ছোট ভাইকে নিয়ে একটি সুখের সংসার সামসুল হকের। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শামসুল হক ছেলে সন্তানের বাবা হন। আনন্দিত হয় পরিবারের সবাই। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে পুরো পরিবারে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। অসুস্থ হয়ে পড়ে শামসুল হক। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা-নীরিক্ষায় ধরা পরে সামসুল হকের দু’টো কিডনিই নষ্ট। কান্নার রোল পড়ে ঘরে-মাদ্রাসা সর্বত্র। বাবা সলেমান দাঁড়িয়া সামান্য বর্গা চাষি। কঠিন এই রোগের চিকিৎসার টাকা নিয়ে বিপাকে সবাই। যেটুকু জমি-জমা ছিল তা বিক্রি করে চলাতে থাকে চিকিৎসা। টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসার ছাত্ররা নিজেদের টিফিনের টাকা তুলে দেয় চিকিৎসা খরচের জন্য। এগিয়ে আসেন আত্মীয়-স্বজন, পার্শ্ববর্তী স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও পরীক্ষা- নিরীক্ষায় নিমিষেই শেষ হয়ে যায় সংগৃহিত অর্থ। হাত পাতেন আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে।ইতোমধ্যে শামসুল হকের নানা গোপালপুর গ্রামের আবু হানিফ খান তার শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে খরচ চালিয়েছেন চিকিৎসায়।

রাজধানী ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের অধীনে চিকিৎসা চলছে শামসুল হকের। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শামসুল হককে বাচাঁতে হলে অতি দ্রুত অন্তঃত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। কিন্তু, কিডনি কেনা সামর্থ্য না থাকায় মমতাময়ী মা রাহেলা বেগম কিডনী দেয়ার জন্য প্রস্তুত। অপারেশন এবং ওষুধসহ সব মিলিয়ে প্রয়োজন প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। অর্থের অভাবে সম্ভব হচ্ছে না কিডনী প্রতিস্থাপন। টাকার অভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পারায় দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে সামসুল হকের। মৃত্যু যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। নিরুপায় বাবা-মায়ের চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে ছেলে।

স্বামীর চিকিৎসা করতে না পারায় অসহায় হয়ে পড়ছে স্ত্রী হাবিবা বেগম। কিছু না বোঝার আগেই ছেলের পিতা হারানোর ভয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন মা। ২০ মাস বয়সী অবুঝ সন্তান মাসরুর মিষ্টি চেহারা দেখে প্রায়ই ডুকরে কেঁদে ওঠেন শামসুল হক। তিন প্রজন্মের কাছে যেন পুরো জীবনটাই এখন অন্ধকারে ঢাকা।

এদিকে, এ ঘটনা জানার পর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কোটালীপাড়ার সমাজিক সংগঠন ‘জ্ঞানের আলো পাঠাগার’। তারা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শামসুল হকের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার জন্য সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। ১০, ২০, ৫০ বা ১০০ টাকা যার যার সাধ্য অনুযায়ী টাকা দিয়ে শামসুল হকের চিকিৎসায় সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। 

অসুস্থ্য শামসুল হকের পিতা দিন মজুর সলেমান দাঁড়িয়া বলেন, আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। ছেলের চিকিৎসা করতে সহায় সম্বল যা ছিল সব শেষ করেছি। এখন আর কিছুই নেই। যে যা দিচ্ছে তাই দিয়ে কোনও রকমে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। ছেলের জীবন বাঁচাতে সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

মা রাহেলা বেগম বলেন, যেখানে চিকিৎসা করতে পারছি না, সেখানে আবার কিডনী কেনা। সামর্থ্য না থাকায় এখন নিজের একটি কিডনী দিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্ঠা করছি। কিন্তু কিডনী বসাতে ৮ লাখ টাকা লাগবে। এত টাকা আমরা কোথায় পাব। টাকা যোগাড় করতে না পারলে চোখের সামনেই ছেলের মৃত্যু দেখতে হবে। তাই ছেলেকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সকালের সহযোগিতা কামনা করছি। একটি টাকাই হয়তো বাঁচাতে পারে শামসুল হককে। ফিরিয়ে দিতে পারে অবুঝ শিশুর পিতাকে। 

শামসুল হকের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার টাকা পাঠাতে পারেন বিকাশের এই নম্বরে। বিকাশ নম্বর জ্ঞানের আলো পাঠাগার: ০১৯২৮৩১৮৬৭৮