সম্পাদকীয়

সুবীর ভৌমিক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে খেলা বন্ধ করুন

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

সুবীর ভৌমিক ভারতীয় থিংক ট্যাংক নামে পরিচিত সুবীর ভৌমিক। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্‌স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এ কর্মরত। 

দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সংবাদদাতা হিসেবে।

প্রশ্নটা সেখানে নয়, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কেন লাফালাফি করছেন বিষয়টা পরিষ্কার নয়। 

আসলে তিনি কাদের এজেন্ট? "আই এস আই" বা "র" বা ব্রিটিশের হয়ে সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস ভায়া সি আই এ হয়ে কি বাংলাদেশের মধ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লাফা লাফালাফি করছে?  

যদি তাই না হবে তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফটোশপের এই কাজ কতটা মারমুখী সেটা অনুমেয়।  

পূর্বে তিনি প্রাক্তন সেনা জেনারেলের সহযোগিতায় পরিকল্পিত অভ্যুত্থান বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, কিন্তু তিনিতো থেমে নেই। এই ভারতীয় ভাড়াটে সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে নতুন প্রচার অভিযান শুরু করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলি আলাপ নিয়ে সুবীর ভৌমিকের পশ্চাতদেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি নিশ্চই তার দেশের স্বার্থেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করবেন। তিনি কারসাথে কথা বলবেন, কার সাথে বলবেন না সেটার দায় সম্পূর্ণ তার। তার চিন্তাশক্তি তার নির্ধারক।  কিন্তু সুবীর ভৌমিক বাংলাদেশের কবে থেকে নীতিনির্ধারক হলো সেটাইতো বোঝাগেল না।  

ইন্ডিয়ান ইনসাইডারের একটি ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের বিশ্লেষণ বলছে শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সাথে ২০১৭ সালে জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক বৈঠকের সময় বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে যে ছবি তুলেছিলেন, সেই ছবির শেখ হাসিনাকে আর ইমরান খানের সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক থেকে তোলা ছবি থেকে ইমরান খানকে নিয়ে ছবির এই কারসাজি করেছেন। 

বাংলাদেশের সাংবাদিক যদি সংবাদ প্রচারে এই ধারা ওই ধারায় পতিত হয় তাহলে বাংলাদেশে বসে সুবীর ভৌমিক কোন ধারায় পড়লো। বাংলাদেশের অভ্যান্তরে এই সব ভৌমিক টৌমিকের কোন স্থান নেই সেটা হয়তো ভৌমিক সাহেব জানেন না। সাংবাদিকতা করতে এসে বাংলাদেশের অতি স্পর্শকাতর স্থান শেখ হাসিনাকে নিয়ে টালবাহানায় নাম লেখালে আইন যদি কিছু করেতো ভালো তা না হলে ছোট ছোট ছেলেপেলেই তার সাংবাদিকতার ১৪ নং পাঠ বুঝিয়ে দিতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে বয়স্কদের দরকার হবে না।  

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্পন্দন সেটা সুবীর ভৌমিককে বুঝতে হবে।  দেশের অভ্যান্তরে যতোই মতভেদ থাক, পারস্পরিক বিরোধিতা থাক - মিস্টার ভৌমিক নিশ্চই বুঝবেন সময় হলে বাংলাদেশি একত্রিত হয়, হতে জানে।  জ্ঞানি ভালো, কিন্তু জ্ঞানপাপী বা অধিক পিন্ডিত হলে বাঁশ পিছন দিক দিয়েই যাবে, কথাটা মিস্টার ভৌমিক মনে রাখলেই ভাল হয়।