মুজিব শতবর্ষ

মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা: সৈকতপাড়ে মানুষের মিলনমেলা

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২০     আপডেট: ১১ জানুয়ারী ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে বসেছিল মানুষের মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানের সময় শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে ঠিক করা হলেও এর আগে দুপুর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিলসহ জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার লোকজন।

এসময় অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, বঙ্গবন্ধু এখন বিশ্ববন্ধু। তিনি কোনো দলের নয়, সবার। বাংলাদেশের সম্পদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটি সাগরপাড়ের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে।

ক্ষণগণনার আনুষ্ঠানিকতার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। যেন সাগরে উপচে পড়ছিল জনতার ঢেউ।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শিরিন আকতার, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, কউক চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাহফুজুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শাজাহান আলির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের লোকজন অংশগ্রহণ করে।

হোটেল মোটেল জোন, ব্যবসায়ী সংগঠন, ট্যুর অপারেটর, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার লোকজন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগদান করে।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে লাবণী পয়েন্টে বঙ্গবন্ধুর ১০০টি দুর্লভ ছবি নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।

সাগর তীরে ১০০টি বেলুন উড্ডয়ন ও ১০০টি কবুতর অবমুক্তকরণ ছিল বেশ আকর্ষণের।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তেজগাঁওস্থ পুরাতন বিমান বন্দরে ক্ষণগণনার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় তার প্রদত্ত ভাষণ একযোগে প্রচার করা হয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। একসঙ্গে উদ্বোধন করা হয় ক্ষণগণনার ঘড়ি।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকাল ৫টায় কেন্দ্রীয়ভাবে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর লোগো উন্মোচন, ঘড়ি চালুর মধ্যদিয়ে ক্ষণগণনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও পাবলিক স্থানে একইসঙ্গে ক্ষণগণনা শুরু হয়।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মগ্রহণের শততম বছর পূর্ণ হবে। এবছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন করবে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানে কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে এই দিনে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দিনটিকে উপলক্ষ্য করে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করা হলো।