মুজিব শতবর্ষ

মেলা অঙ্গনের সর্বত্র মুজিব-স্মরণ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০     আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা পায়, সেই আন্দোলনের অগ্রনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  আর তাই তার জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে তাকে এবারের একুশে বইমেলা উৎসর্গ করা হয়েছে।

নকশায়, গানে, কবিতায়, বইয়ে কোথায় নেই মুজিব! প্রতিটি প্রকাশনীর নতুন নতুন বইয়ে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও লেখালেখি,  তার জীবন ও কর্ম।

স্টল সজ্জায় বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধুর আদি বাড়ি ও নতুন বাড়ির আদলে স্টল সাজানোর পাশাপাশি নানা নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুজিবকে। শোভা প্রকাশনী স্টরটি সম্পূর্ণই বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির আদলে গড়া। চিলেকোঠার জানালায় মনে হয় মুজিব তাকিয়ে আছেন বইপ্রেমীর দিকে।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর চিরচেনা সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, কোট পরা ছবি দেখে মনে হবে বঙ্গবন্ধু জনতার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আগামী প্রকাশনীর স্টলের সামনে। কিংবা প্যাভেলিয়ন জুড়ে শুধুই বঙ্গবন্ধুর ছবি জড়ানো।

প্রকাশনা সংস্থা কথা প্রকাশ আর ইউনিভার্সিটি পাবলিশার্সের প্যাভলিয়নের উপরের চার দিক ঘিরে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছবি।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর আদি বাড়ির আদলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর স্টল সাজিয়েছে। কেননা, বাড়িটি এখন পুরাকীর্তি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটি দেখভাল করছে। এভাবে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে বঙ্গবন্ধুর দেখা মেলে মেলা জুড়ে।

মুজিব পাঠাগার ও বঙ্গবন্ধু পাঠ

বইয়ের পাশাপাশি আছে কিছু দুর্লভ ছবি। মুজিব পাঠাগারের সেই দুর্লভ ছবিগুলো বেশ আগ্রহ করে দেখছেন বইপ্রেমীরা। বঙ্গবন্ধুর বই পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে 'বঙ্গবন্ধু পাঠ' কর্নারে।

বঙ্গবন্ধুর উল্লেখযোগ্য বই

বইমেলায় এই কদিনেই বঙ্গবন্ধুর ওপর শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া এবার রেকর্ড সংখ্যক বই প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর।

বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘আমার দেখা নয়াচীন’সহ বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ২৬টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। আগামী দুই বছর বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০ বই প্রকাশ করবে। প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সৈয়দ শামসুল হকের শিশুতোষ ‘বঙ্গবন্ধুর বীরগাথা’, হারুন-অর-রশিদের ‘বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব: কী ও কেন’, অজয় দাশগুপ্তের ‘বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন কৌশল ও হরতাল’, নূহ-উল-আলম লেনিনের ‘রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব’। প্রকাশের অপেক্ষায় আছে অনুপম হায়াতের ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’, মোহাম্মদ আলী খানের ‘ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু’, জালাল ফিরোজের ‘বঙ্গবন্ধু গণপরিষদ সংবিধান’, সাইমন জাকারিয়ার ‘সাধক কবিদের রচনায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি’, সমীর কুমার বিশ্বাসের ‘বঙ্গবন্ধুর সমবায় বাংলা’, পিয়াস মজিদের ‘মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি’ প্রভৃতি বই।

প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত গ্রন্থের ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান একাডেমির অনুষ্ঠানমালার মূল মঞ্চে প্রতিদিনই থাকছে।

নতুন বই

আজ মেলার দশম দিনে ১৫২টি নতুন গ্রন্থ এসেছে। পার্ল পাবলিকশেন্স এনেছে রামেল ইয়ামীনের কাব্যগ্রন্থ ‘এখানে কেউ নেই’, খেয়া প্রকাশনী এনেছে মো. রাব্বি আহসানের ‘কসমিক লাইফ’, শিশু গ্রন্থকুটির এনেছে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থের ‘হ্যালো মি. গাবলু’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে শিল্পী শাহরিয়ারের ‘বেসিক আলী-১২’, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘উপন্যাস ত্রয়ী’, বদিউর রহমানের ‘ড্রীম গার্লস’, অবসর এনেছে নাবিল মুহতাসিমের ‘জুয়নবিদ্যা’, মহি মুহাম্মদের ‘ভাড়াবউ’, সাত ভাই চম্পা প্রকাশনী এনেছে খালেক বিন জয়েন উদ্দীনের ‘বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল’, সুলো প্রকাশনী এনেছে ‘ক্লাসের ফাঁকে বিজ্ঞান প্রজেক্ট’ প্রভৃতি।

লেখক বলছি

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন সুহিতা সুলতানা, তাপস রায়, মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এবং সাঈদ আজাদ।

মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান

আজ গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ আলী খান রচিত ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আতাউর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ। গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন মোহাম্মদ আলী খান।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি সোহরাব পাশা, রহিমা আখতার কল্পনা, শিহাব শাহরিয়ার এবং অনিকেত শামীম।

আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহফুজুর রহমান, অনন্যা লাবনী পুতুল এবং শহিদুল ইসলাম নাজু।

সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, রথীন্দ্রনাথ রায়, শফি ম-ল, সালমা চৌধুরী, মো. রেজাউল করিম এবং শুভ্রা দেবনাথ।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমস্বর’। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), মো. হাসান আলী (বাঁশি), মো. দেলোয়ার হোসেন (দোতারা), আনোয়ার সাহদাত রবিন (কী-বোর্ড)।