"এসি বিস্ফোরণে আগুন লেগেছে" কথাটা কতটা যৌক্তিক?

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

যে কোন বিত্তশালী এলাকায় বা স্থাপনায় আগুন লাগলেই, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক প্রাথমিক ভাবে বলা হয়  "এসি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগে থাকতে পারে, তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানানো হবে। এরপর সবই ধামাচাপা। 

প্রশ্নটা হলো, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আসলেই কি বাংলাদেশে কোন এক্সপার্ট আছে, নাকি সেই প্রযুক্তি আছে? 

সত্যি কি কোন বিস্ফোরণে আগুন লাগে, নাকি আগুন লাগানো হয়? কোন বিষয়কে স্বার্থক করতে বা পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার এই মরণ নির্ভর নাটক মঞ্চায়ন হয় নাতো?

একটু ফিরে দেখি এসি বিস্ফোরণে আগুন লাগার কি কি কারণ থাকতে পারে। 

এসিতে যে সকল উপাদান থাকে সহজ বাংলায়ঃ

১। কমপ্রেশার 

২। ফ্যান 

৩। বৈদ্যুতিক সার্কিট বা ইউনিট

৪। কমান্ড বা কন্ট্রোল সার্কিট 

৫। কিছু ইলেক্ট্রিক ওয়্যার 

৬। ইন্ডোর ইউনিট (বাতাস ইন হবার দরজা ছাড়া কিছুই না)

৭। আউটডোর ইউনিট (ঝুঁকি বলতে যা যা বোঝাই তার সবটা এই ইউনিটে, যার অবস্থান ছাদের উপরে বা দেয়ালের বাইরে) 

৮। এসি চালাতে যেহেতু ৩ ফেস লাইনের ক্যাবল ব্যবহার হয় অতিরিক্ত (৪৪০ ভোল্ট) বিদ্যুতের জন্য। 

এখন আসেন, এসির গ্যাস কতটা ভয়াবহ আগুন লাগার জন্যঃ 

এসিতে সাধারণত দুই ধরনের গ্যাস থাকে। কোনো এসিতে ব্যবহার করা হয় আর-২২ গ্যাস, কোনোটিতে আর-৪১০। 

এই দুই ধরনের গ্যাসের কোনোটিই আগুন জ্বলতে সহায়তা করে না। 

তবে বলা হয় আর-২২ গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এলে নিজের রূপ পাল্টে উৎপন্ন করে নতুন গ্যাস। এটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র যন্ত্রণার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। (আগুনের ফলে উৎপন্ন ধোঁয়া বা গ্যাস উক্ত স্থানের অক্সিজেন নষ্ট করে দেয় বা অক্সিজেনের চেয়ে বেশি স্থান দখল করে, ফলে শ্বাস কষ্ট হবেই এবং যা মৃত্যুর কারণ হয়) 

১। তবে যাইহোক মোদ্দা কথা হল, এসির গ্যাস আগুন জ্বালায় না। ক্ষতিকারক গ্যাস তৈরি করে মাত্র। যার কারণে প্রাণহানি হতেই পারে। তাইবলে এসির কারণে সমগ্র রূমে বা সমগ্র বিল্ডিংয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠার কোন কারণ নেই যদি সেখানে অন্য কোন দাহ্য পদার্থ না থাকে। 

২। তাহলে বিপদের মূল কারণ ইলেক্ট্রিক ওয়্যার।  তবে সেটাও কনসল করা থাকে বর্তমান সময়ের অধিকাংশ বিল্ডিংয়ে। রাতারাতি আগুন ছড়িয়ে পড়ার কোন কারণ নেই। 

৩। বর্তমান সময়ের আধুনিক সকল এসির আআউটডোর থাকে ছাদের উপরে বা বিল্ডিং এর বাইরে। সুতারং গ্যাস বা আগুন বিল্ডিং এর মধ্যে দ্রুত প্রবেশ করার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া এসি বিস্ফোরণ আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো ধ্বিংসের নয় বা তার সাথে অনবরত গ্যাস প্রবাহের কোন সুযোগ নেই। এসির কমপ্রেসার অনেক ছোট একটি বস্তু। বিস্ফোরণ হলেই গ্যাসের মেয়াদ শেষ।  

কিন্ত যা দেখতে পাই- আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে সমগ্র বিল্ডিংয়ে বা কোন পাকা বাড়িতে বা ফ্লাটে। দৌড়ে এসে বলে এসি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগেছে। এসি বিস্ফোরিত হলে আগুন নয়, সেখানে গ্যাস বা ধোঁয়া হতে পারে। আগুন লাগলে বা লাগতে হলে আগুন জ্বলার উপাদান থাকতে হবে। হোক সেটা বিদ্যুৎ ক্যাবল বা অন্যকিছু।  তাছাড়া বিদ্যুতের ক্যাবল থেকে দ্রুত আগুন লাগতে হলে ক্যাবল ওয়ারিং কনসিল না হয়ে বাইরে থাকতে হবে।  

গুলসানের ইউনাইটেড হাসপাতাল বিত্তশালীদের স্থান। সেখানে অস্থায়ী করোনা ইউনিট মুলিবাঁশের বেড়া, বা টিনের তৈরি ছিল না, এরপরেও সেই ইউনিটে আগুন লেগেছে এবং মানুষ মারাও গেছে। দাউদাউ করে আগুন জ্বলেছে। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস এসেছে এবং তারাই সেই দোষ এসির ঘাড়ে চাপিয়েছে। 

বাংলাদেশকি চাঁদের দেশের কোন দেশ, যে সকল সায়েন্টিফিক থিওরির বাইরে চলে? 

বিষয়টি এমন নয়তো - বিত্তশালীদের এলাকা হতে করোনা ইউনিট হটাতে একটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করে সেই নাটক মঞ্চায়ন হলো? নাকি হাসপাতালের কোন দুর্নীতি বা অন্য কিছু চাপা দিতেই এমন বিষয় জন্ম নিলো? 

সরকার নিশ্চই তদন্ত করে দেখবে। তবে তদন্ত হলেই কি আর না হলেই কি। দেশ চালায়তো গুলশানের মতো বিত্তশালী এলাকা তাই নয়কি?